প্রতীক্ষার প্রেম, অত:পর বিয়ে (পর্ব-03)
দিগন্ত কুমার রায়
“গৌরি’র ফোনালাপ ও অভিমান” পর্ব
দু’জনের মধ্যে সকাল দুপুর রাত অনবরত কথা হচ্ছে। এভাবে একদিন, দু’দিন করে সপ্তাহ চলে যাচ্ছে। ছেলেটি একদিন ভাবলো- ঢাকায় যাবার আগে মেয়েটির সাথে সাক্ষাত করা যাক। এজন্য রংপুর যেতে হবে। ছেলেটির ইচ্ছা হলো- হবু বউকে একটু সারপ্রাইজ দেয়া যাক। মানে- যোগাযোগ না করেই সাক্ষাত করার সিদ্ধান্ত নিল।
রংপুরে পৌঁছে মেয়েকে ফোন করা হলো। ছেলেটি নরমালি কথা বলছে। যেরকম, বাড়িতে থাকলে বলা হয়। হঠাৎ ছেলে বললো- “আমি আপনার সাথে দশ মিনিটের মধ্যে দেখা করতে চাই।” কিন্তু মেয়েটি রাজি হচ্ছে না। মেয়েটি মনে করলো- ওর সাথে মনেহয় ফান করা হচ্ছে।
ছেলেটি যে বর্তমানে রংপুরে আছে একথা মেয়েটিকে কোনো ভাবেই বিশ্বাস করানো যাচ্ছে না।
কি আর করার? আশায় নিরাশা।
ছেলেটি ভাবলো- ওনি হয়তো আশাই করেননি। যে, তার সাথে কেউ দেখা করতে আসুক। আবার এটাও ভাবলো যে, মেয়েটির সাথে তো তার আগে কখনও সেভাবে সাক্ষাত হয়নি, পারসোনাল সমস্যা হয়তো থাকতে পারে, আবার শারীরীকভাবে অসুস্থও থাকতে পারে। আরো কতো কী। সেজন্য দেখা না করাটা অযৌক্তিক না।
হয়তোবা সারপ্রাইজ দেয়ার কৌশলটায় একটু ভুল ছিল।
কিন্তু দলগ্রাম থেকে রংপুর দেখা করতে এসে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি কোন ভাবেই মেনে নেয়া যাচ্ছে না।
সাথে থাকা বন্ধুকে না জানিয়ে কেনা জীবনের প্রথম গোলাপটি কি করা যায় ভাবছে ছেলেটি। বাড়ির পথে রওনা হলো। পথিমধ্যে তিস্তা নদীর দ্বিতীয় তিস্তা সেতুতে দাড়িয়ে ছেলেটি তার প্রিয় মানুষের জন্য কেনা ভালবাসার গোলাপটি তিস্তার নির্মল জলে অর্পন করলো। যেন নদীকেই সে তার প্রেমের সাক্ষী করে রাখলো।
কিছুক্ষণের মধ্যেই মেয়ের নাম্বার থেকে ফোন এলো। মেয়েটি জানতে চাইলো দেখা না করাতে মন খারাপ হয়েছে কি না?
ছেলেটি বললো- “কোনো অসুবিধা নাই। এতে মন খারাপ করারও কিছু নাই। আর এটা নিয়ে তুমিও মন খারাপ করো না”। এই বলে দু’জনে ফোন রেখে দিল ।
আসোলে সত্যিই ছেলেটির মন খারাপ হয়েছিল সেদিন। জীবনের প্রথম গোলাপটি না দিতে পারার দুঃসহ অনুভূতি ছিল মনে রাখার মতো।
পরদিন সকালে ফোন এলো। হাস্যেজ্জ্বল কণ্ঠে সরল, সাচ্ছন্দ্যে কথা বলছে মেয়েটি!! ছেলেটি আর মন খারাপ করে থাকতে পারলো না। যেন মন খারাপের সকল কারন কেড়ে নিল মেয়েটি।
ছেলেটি সেদিন বুঝতে পেরেছিল ভালোবাসার মানুষের সাথে মন খারাপ করে বেশিক্ষণ থাকা যায় না। এভাবে, কথা চলে…….. দিন যায় তাদের দু’জনের মধ্যে জানা-শোনা, মায়ার বন্ধন আর ভালোবাসা সুদৃঢ় হতে থাকে। যেন সন্ধ্যার আকাশের দুটি তারা মিটিমিটি ভাব বিনিময় করছে।
18 জানুয়ারি 2021 (ঢাকায় আসার দিন)
দু’দিন পূর্বে তুষভাণ্ডারে এস.আর ট্রাভেল্স বাসের টিকেট কনফার্ম হলো। মেয়েটিকে জানানো হলো। মেয়েটি কিছুক্ষণ পরপর ফোন দিচ্ছে। বাস কখন আসবে, নাস্তা কি খাবে, কখন পৌছুবে। আরো কত কী?
যথারিতি সন্ধ্যে 7:55 মিনিটে বাস ছাড়লো। এ কথা ছেলেটি এসএমএস করে জানিয়ে দিল। লালমনিরহাটে পৌঁছালে দু’জনের মধ্যে কিছুক্ষণের কথোপকথোন হলো।
20 জানুয়ারি 2021 (সকাল 10:00)
ঢাকায় পৌঁছালে ছেলেটি এসএমএস করে জানাল-“আমি এসে গেছি গৌরি।” অপর দিক থেকে এসএমএস এর উত্তর আসলো- “ঠিক আছে ভোলানাথ।”
এরপর কথা চলে, দিন যায় তাদের মধ্যে অজানাকে জানা যেন পূর্ণতা পেতে থাকে।
কিছুদিন পর……
একদিন সন্ধ্যে 7:00 টা কিংবা 7:30 টার দিকে মেয়েটির ফোন আসলো। কণ্ঠে জড়তা, কিছু বলার অপেক্ষা। ছেলেটি বুঝতে পারলো মেয়েটি কিছু বলতে চায়।
কিন্তু সে কি বলতে পারে? ভাবছে ছেলেটি।
মেয়েটি এক বিঘা জমির বিষয়ে কথা বললো। ছেলেটি বিস্তারিতভাবে সবকিছু শুনলো। কিন্তু বিষয়টি ছেলের পরিবার মেনে নেবে কিনা তা একটি ফ্যাক্টর হয়ে দাড়ালো।
ছেলেটি মেয়েটিকে আশ্বস্থ করে বললো- “আমি বিষয়টি বাড়িতে বলবো, তারপর দেখি কি অ্যান্সার আসে?”
“অ্যান্সার নেগেটিভ কিংবা পজিটিভ যাই আসুক না কেন মন খারাপ করা যাবে না।”- বললো ছেলেটি।
এদিকে মেয়েটি ভাবলো- ছেলে যেহেতু রাজি আছে। পরিবার অবশ্যই রাজি হবে।
কিন্তু ছেলের পরিবারের আত্মীয়স্বজন বিষয়টি সহজভাবে না নিয়ে নেগেটিভ অ্যান্সার দিল।
চিন্তায় পড়ে গেলো ছেলেটি।
ছেলেটিও মনের দিক থেকে চাচ্ছে না যে, বিয়ের পর বউয়ের পরিবারের সাথে অর্থ সম্পর্কিত কথা বলতে।
কারণ কথায় আছে- “আত্মীয়ের সাথে অর্থের বিষয় যতই কম কথা বলা যায় ততই শ্রেয়।”
ছেলেটি ভাবছে- কীভাবে মেয়েটিকে সে নেগেটিভ অ্যান্সার দিবে। এভাবে কিছু দিন যায়…..।
অবশেষে একদিন কথা বলার মাঝে জমি বিষয়ে মেয়েটির আশা-আকাঙ্খাকে ভেঙ্গে দিয়ে পরিবারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলো।
মেয়েটি আশাই করেনি এ রকম কোনো অ্যান্সার আসবে। মেয়েটির মনের আকাশ নিমিশেই কালো মেঘে আচ্ছন্ন হয়ে গেলো। যেন, সবকিছু হারিয়ে গেলো। মেয়েটির নিজের বলতে যেন আর কিছু থাকলো না। কিন্তু কিছুই করার ছিল না।
মেয়েটির মনের সকল রাগ, অভিযোগ, অভিমান যেন নির্দোষ ছেলেটির উপর আছড়ে পড়লো…….।
এরপর আসছে- শ্যালিকাকথন।।
No comments:
Post a Comment