“শ্যালিকাকথন এবং একটি টেনশন” - দিগন্ত/DIGANTA

Breaking

BANNER 728X90

Tuesday, February 9, 2021

“শ্যালিকাকথন এবং একটি টেনশন”

 

প্রতীক্ষার প্রেম, অত:পর বিয়ে (পর্ব-04)

দিগন্ত কুমার রায়

“শ্যালিকাকথন এবং একটি টেনশন”


বিয়ে করবো আর শ্যালিকা থাকবে না, তা কি করে হয়? হোক সে নিজের, কাকাতো, খুড়তুতো, মাসিতো, পিসিতো কিংবা পাড়াতো শ্যালিকা। জামাইবাবু-শ্যালিকা শব্দ দুটির অর্থ চিন্তা করলে আমরা এর গভীরতা উপলব্ধি করতে পারি। মানে, বিবাহিত ছেলে মেয়ের মধ্যে যেন অন্যরকম আমেজ সংযুক্ত করে।

উচ্চতর একাডেমিক শিক্ষা অর্জনে অধ্যয়নরত সুন্দরী আর স্মার্টলি কথা বলা শ্যালিকা আমার। বউয়ের সাথে প্রথম কথা বলার সুযোগটি আমার সেই শ্যালিকা স্মৃতি দেবীর মাধ্যমে হয়েছিল। ফেসবুক মেসেঞ্জারে কথা হয় তার সাথে। তখন থেকেই নিয়মিত যোগাযোগ।

এভাবে কথা হয়…. দিন চলে যাচ্ছে।

একদিন সে মেসেঞ্জারে এসএমএস করলো। ক্যামন আছি জানতে চাইলো।

দুর্ভাগ্যবসত ব্যস্ততা, আর বে-খেয়ালীর কারণে এসএমএস টি কয়েকদিন পর আমার নজরে আসলো আর সঙ্গে সঙ্গে উত্তর’ও দিয়ে দিলাম।  

কিন্তু উত্তর দিতে দেরি হওয়ায় কারণে যা হবার হয়ে গেছে।

 অজান্তেই আমি আমার শ্যালীকা’র (স্মৃতি দেবী) মন চূর্ন-বিচূর্ন করে দিয়েছি।

সে আমাকে “গুড বাই” বলে শেষ বিদায় জানিয়ে দিয়েছে।

আমি ভাবলাম- সামান্য কারণে গুড বাই জানানোর কি আছে।

আমাকে ভুল বোঝার কারণগুলি জানিয়ে দিলাম আর যোগাযোগও কমিয়ে দিলাম।

বিষয়টি আমাকে ভালো লাগছে না। খুবই খারাপ অনুভূতি হচ্ছে।

দিন যায়…….।….কিছু দিন পর…..।

……. বউয়ের সাথে বিষয়টি শেয়ার করলাম।

 বউ (গৌরি) বললো- সে ছোট মানুষ, ভুল তো করতেই পারে। তুমি তার সাথে যোগাযোগ কেন করছো না? আমি আর এক মিনিট দেরি না করে, বউয়ের সাথে ফোনে লাইনে থাকা অবস্থাতেই স্মৃতিকে ফোন দিলাম। ওপাশ থেকে ফোন রিসিভ হলো।

স্মৃতি বললো- জিজু, কেমন আছেন? (আনন্দ আর আগ্রহের সাথে)

আমি বললাম- “ভালো। তুমি কেমন আছো?”

এভাবেই আবার কথা শুরু হলো দু’জনে।

[এখানে বলে রাখা ভালো যে- স্মৃতি আমাকে জিজু বলেই ডাকে।]

 কথার শেষে নিজেকে খুবই দোষী মনে হলো। একজন সুন্দর মনের শ্যালীকা’কে এতোদিন আমি ভুল বুঝেছিলাম।

   একদিন আমি কথার সূত্রে আমার এক বন্ধুর সাথে তার পরিচয় করিয়ে দিতে চাইলাম। ভাবলাম আমার বন্ধুটি যেহেতু প্রতিষ্ঠিত আর সুন্দর মনের। তাই শ্যালিকার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া যেতেই পারে।

কিন্তু শ্যালিকা কোনো অপরিচিত ছেলের সাথে পরিচিত হতে রাজি নয়।

“কেন পরিচিত হবা না” –জিজ্ঞেস করলাম?

“এমনিতে”- সে উত্তর দিলো।

আমি কিছুটা আশ্চয্ হলাম যে, একজন ব্যাচেলর মেয়ে আর একজন ব্যাচেলর ছেলের সাথে কেনইবা পরিচিত হতে চাইছে না? এ বিষয়ে আমি আর কৌতুহল দেখালাম না।

এরপর মাঝে মধ্যে কথা বলা আর খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে দুজনার।

কিছুদিন পর বিষয়টি সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা পেলাম বউ’য়ের (গৌরি) সাথে কথা বলে।

স্মৃতি প্রেম করছে। বিয়ে’ও ঠিক হয়েছে সেই প্রেমিকের সাথে। আর বিয়েটাও হয়ে যাবে খুব শীঘ্রই।

 শুনে ভালোই লাগলো।

কেননা, যে বিষয়ে আমি সুযোগ করে উঠতে পরিনি, তা বর্তমানের ছেলে-মেয়েরা পাচ্ছে। …….।

বউয়ের কাছে সেই প্রেমিকের পিকচার দেখলাম। ছেলে দেখতে নায়কের মতোই সুন্দর। দু’জনকে ভালোই মানাবে মনে হচ্ছে।

তবে, এই বিষয়টি সে আমার কাছে নাও লুকাতে পারতো। যেখানে শ্যালিকা আর জামাইবাবুর ব্যাপারই তো!

 যাই হোক, এখানে অসুবিধার কিছু নাই।

কিছুদিন হলো সম্ভবত 08 ফেব্রুয়ারি 2021 ইং তারিখ রাত সাড়ে দশ’টার দিকে আমার ফেসবুক মেসেঞ্জারে একটি ভিডিও আসলো।

 আমি ভিডিওটি কয়েকবার দেখে বোঝায় চেষ্টা করলাম।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে- *[এই ভিডিও সম্পর্কে আমার কিছু বলার নাই]*

আসলে, ভিডিওটি স্মৃতির ফেসবুক আইডি থেকে পাঠানে হয়েছে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই বউ’য়ের ফোন এলো। কথা হলো এবং ভিডিওটি শেয়ার করলাম।

[ভিডিওটি সম্পর্কে বউ’ও কোনো মন্তব্য করলো না]

………..।

…. বাড়ি থেকে অনবরত ফোন আসছে। কিছুদিন থেকেই ‘বউ’ বাড়ি যেতে চাচ্ছে। সে জানালো-আগামীকাল অর্থাৎ 09 ফেব্রুয়ারি 2021 তারিখ সে বাসায় যাবে।

আমি আমার ভাই (পল্লব)’কে রংপুরে পাঠাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে সে আসতে পারলো না।

 ব্যাগ গুছিয়ে রেডি হলো  বউ সাথে আমার দুশ্চিন্তাও। বাড়ি যেতে সন্ধ্যা হতে পারে। সেজন্য মেস থেকে তাড়াতাড়ি রওনা দিতে চাইলো। কিন্তু দুপুরে না খেয়ে বেরোতে হবে তার। কারন খালার রান্না হতে দেরি হচ্ছে।

 তাই হালকা নাস্তা করে আনুমানিক দুপুর 02:00 টার দিকে বাড়ির পথে রওনা হলো।

 বউ এসএমএস করেছিল এছাড়াও আমার সাথে ফোনে কয়েকবার যোগাযোগ হলো।

 আনুমানিক বিকেল 5:00 টা। ফোন এলো সে বাড়িতে পৌঁছে গেছে।

আমি জিজ্ঞেস করলাম- “কখন আসলা?”

সে বললো- “এক আন্টির সাথে সমগ্র রাস্তা গল্প করে আসছি।” শুনে ভালো লাগলো।

 টেনশন কমে গেল। তার মামাতো ভাই ভোটমারি ইউনিয়নের ঘুন্টি বাজার নামক একটি জায়গা থেকে তাকে রিসিভ করেছে।

রাত আনুমানিক দশ’টা বউয়ের সাথে কথা বললাম। রাতের খাবার খেয়েছে এবং এখন ঘুমিয়ে পড়বে।

অবশেষে একটি ‘টেনশন’ এর অবসান ঘটলো।.....................।।

........................।।।

 

No comments:

Post a Comment