“গৌরি’র প্রাথমিক ভাব বিনিময়” পর্ব / দিগন্ত কুমার রায় - দিগন্ত/DIGANTA

Breaking

BANNER 728X90

Monday, February 1, 2021

“গৌরি’র প্রাথমিক ভাব বিনিময়” পর্ব / দিগন্ত কুমার রায়

  

প্রতীক্ষার প্রেম, অত:পর বিয়ে (পর্ব-02)

দিগন্ত কুমার রায়

“গৌরি’র প্রাথমিক ভাব বিনিময়” পর্ব

09 জানুয়ারি 2021

বাকদান তো হলো। সময় যাচ্ছে, এক দিন.. দু’দিন.. তিন দিন। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীতে ডিজিটাল এই যুগে ছেলে পক্ষ ও মেয়ে পক্ষ উভয়েই যেন এ্যানালগ হয়ে গেছে। তারা মনেহয় ভাবছে- ছেলে মেয়ের যোগাযোগের কি দরকার?

কপোত-কপোতীর যোগাযোগের ক্ষেত্রে যেন কারো কোনো দায়িত্ব নেই। ছেলে ভাবছে- কীভাবে যোগাযোগ করা যায়? কাউকে বলতেও পারছে না।

 

বৃষ্টি (ছেলের মামাতো বোন) এসেছে দু’দিন হলো। সে বাসায় যেতে চাচ্ছে এবং তাকে বাসায় পৌছায় দিলো। মেয়ে পক্ষের কিছু স্বজন ছেলেকে মামার বাসায় দেখে আশা করেছিল- ছেলে নিশ্চই নতুন হবু শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে আসবে। ছেলে নিজেও সিদ্ধান্ত নিয়েছিল- মেয়ে যেহেতু বাসায় আছে তাহলে দেখা করে আসা যাবে। কিন্তু জরুরী কাজ থাকার কারণে ছেলে আর দেখা করতে পারলো না। কোনো পক্ষের আশাই পূর্ন হলো না। মেয়ে রংপুরে চলে এলো।

 

…….দুপুরে স্নানের সময় মা লক্ষ্য করলো ছেলের শরীরে অসম্ভব রকমের ঘামাচি দেখা যাচ্ছে, যা শেষ পযন্ত এ্যালার্জি হিসেবে পরিগনিত হলো। এই এ্যালার্জি ছেলের শরীরে সমগ্র জীবনে একবারও দেখা যায়নি। এমনকি ইতিপূর্বে পরিবারের কেউ এ্যালার্জিতে আক্রান্ত হয়নি, যা বংশগতও নয়।

 

ছেলের ভাই (পল্লব) যেন রম্য করায় সুযোগ পেলো। সে বললো- “কালকে দিদি’র (গৌরি) সাথে দেখা করোস নাই, আর ওনার মন খারাপ করে দিছোস। সেই জন্যেই তোর এই শাস্তি, সারা শরীরে এ্যালার্জি। আ হা হা- কী যে মজা!!! দ্যাখ ক্যামন লাগে।”

ছেলের উত্তর- “তুই এখান থেকে যাবি? নাকি তোর গায়েও এ্যালার্জি মেখে দেবো।”

 

এদিকে, মা দুশ্চিন্তায় পড়লেন। বললেন- “তু্ই আজ থেকে প্রাণীজ আমিষ খেতে পারবি না। সব বন্ধ (মাছ, ডিম)।”

ছেলের জবাব- এ কি কথা!!! তাহলে খাবোটা কি?

মা বললো- “মাছ, ডিম ছাড়া অন্য কিছু খেতে হবে। সবজি দিয়ে খাবি….।” কিছু করার নাই।

 

এদিকে 14 জানুয়ারি 2021 ঢাকায় আসার তারিখ নির্দিষ্ট হলো। কিন্তু এ্যালার্জির কারনে তা পিছিয়ে 18 জানুয়ারি করা হলো।

একদিন সন্ধায় হঠাৎ অজানা নাম্বার থেকে ফোন এলো। সম্ভবত 09 জানুয়ারি হবে।

ছেলে- “হ্যালো। কে বলছেন? প্লিজ।”

অজানা মানুষ- “ক্যামন আছেন?” (নারীর কণ্ঠ)

ছেলে- “এখন ভালো আছি। কে বলছেন?”

নারী কণ্ঠ- “বলছি একজন। তো এখন কোথায় আছেন?”

ছেলে- “বুঝলাম একজন বলছেন। তো কে বলছেন? নাম কি? মানে, আমি কি আপনাকে চিনি”

নারী কণ্ঠ- “বলেন তো কে বলছি?”

(মেয়েটি চটপটে আর দারাজ কণ্ঠে কথাগুলো বলছিল)

ছেলে- “আশ্চর্য তো!! ওওও আচ্ছা। স্মৃতি নাকি?”

*(স্মৃতি ছিলো ছেলের বান্ধবি। যে মাঝে মাঝে বোকা বানানোর জন্য আননোন নাম্বার থেকে ফোন দিত। কিন্তু স্মৃতি নামটি কাকতালীয়ভাবে নারী কণ্ঠের নামের সাথে মিয়ে যায়। যা সত্যিই আশ্চযজনক)*

নারী কণ্ঠ- “স্মৃতি কে? কি হয় আপনার? গার্লফ্রেন্ড নাকি?”

ছেলে- “আরে না। বলেন তো কে বলছেন??”

নারী কণ্ঠ- “আমাকে গার্লফ্রেন্ড বানাবেন?”

ছেলে- “সে সুযোগ আর নাই। বাইকের পিছনের সিটটা বুক্ড হয়ে গেছে। আর আমি কমিটেড।”

নারী কণ্ঠ- “আমাকে গার্লফ্রেন্ড করতেই হবে।”

ছেলে- “আপনার পরিচয় দিলে দ্যান। নয়তো এক মিনিটের মধ্যে ফোন কেটে যাবে?

নারী কণ্ঠ- “আচ্ছা ফোন কাইটেন না। দিচ্ছি। আমি সম্পর্কে আপনার শ্যালিকা হবো। মানে, আপনার সাথে যার বিয়া ঠিক হইছে, সেই শেফালীর মাসিতো বোন। স্মৃতি বলছি।”

ছেলে- “ক্যামন আছেন আপনি?”

স্মৃতি- “ভালো। দিদির সাথে আপনার কথা হয়?”

ছেলে- “না। তবে নাম্বার খুঁজতেছি।”

স্মৃতি- “আচ্ছা আমি নাম্বার দিচ্ছি। কথা বলেন।”

এই স্মৃতিই ছেলে এবং মেয়ের মধ্যে যোগাযোগের প্রথম মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। নাম্বার বিনিময় শেষে ফোন রেখে দেয়া হলো। ছেলেটি ‘বউ’ নামে নাম্বারটি সেভ করে রাখলো।

 

সন্ধ্যে 7:35 মিনিট। ছেলে আগ্রহের সাথে বউয়ের নাম্বারটি ডায়াল করলো- রিং হচ্ছে…..।  রিং বাজছে। শেষ মুহুর্তে রিসিভ করলো মেয়েটি। হ্যালো। এবং কথা শুরু হলো। ...

No comments:

Post a Comment