প্রতীক্ষার প্রেম, অত:পর বিয়ে (পর্ব-01) / দিগন্ত কুমার রায় - দিগন্ত/DIGANTA

Breaking

BANNER 728X90

Friday, January 29, 2021

প্রতীক্ষার প্রেম, অত:পর বিয়ে (পর্ব-01) / দিগন্ত কুমার রায়

  

প্রতীক্ষার প্রেম, অত:পর বিয়ে (পর্ব-01)

দিগন্ত কুমার রায়

 প্রথম পর্ব


রোনার সময় অনুষ্ঠিত দুর্গা পূজোতে………ছেলেটির পচন্দ হয়ে গেল।।। ইন্টারমেডিয়েট থেকে ছেলেটি একটি সুন্দর স্বপ্ন বুনতে শুরু করে। যেখানে সে তার কল্পিত নারীকে সঙ্গিনী রূপে পাবে আর তার প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে স্বপ্নকে বাস্তবতার পথে এগিয়ে নিতে যথাযথ সহযোগিতা করবে। ইন্টারমেডিয়েট থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত তার অনেক মেয়েকেই পচন্দ আর ভালোও লাগতে শুরু করে। সে তার বন্ধুদের দেখেছে, ক্যাম্পাসে তাদের প্রিয়মানুষের সাথে সময় কাটাতে, খুনসুটি করতে।

তারও ইচ্ছা হয়েছিল। কিন্তু পরিবারের পচন্দের কথা ভেবে সে তার ভালোলাগার মানুষগুলোকে নিজের পচন্দের মধ্যেই সীমাবন্ধ রাখে। কেউতো কারো জন্য থেমে থাকে না। ফলে তার অব্যক্ত ভালোলাগার মানুষগুলো হারিয়ে যেতে থাকে একের পর এক।

 মাস্টার্স শেষ করে কিছু সময় পর, সে ঢাকার একটি প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগদান করে। চাকুরির পরীক্ষা দিতে দিতেই সময় যাচ্ছে.... পিওর সরকারি চাকুরির বয়সও শেষ। একদিন তার বাবা কোনো এক নিকট আত্মীয়ের মাধ্যমে তার বিয়ের বিষয়ে সম্মতির কথা জানতে চায়। সে জানিয়ে দেয় পরিবারের সম্মতিই তার নিজেই সম্মতি।

অতএব- বাবা, ছেলের জন্য মেয়ে খুঁজতে/দেখতে আরম্ভ করলো।

 অল্প সময়ের মধ্যে কিছু স্বল্প শিক্ষিত আবার কিছু উচ্চ শিক্ষিত বিবাহযোগ্য মেয়ের খবর আসলো। ছেলেকে বুঝিয়ে ঢাকা থেকে নিয়ে আসা হলো। কিন্তু ছেলে শর্ত দিয়ে বসলো যে, নিজের আর নিজের পরিবারের লেভেলের উচ্চশিক্ষিত মেয়েকেই দেখতে বা সাক্ষাত করতে যাবে। দেখা গেলো, চারজন মেয়ের ক্ষেত্রে ছেলের আরোপিত শর্ত প্রযোজ্য হয়। শর্তানুযায়ী পাত্রী দেখা শুরু হলো।

কিন্তু কোনো মেয়েকে তার মনে লাগছে না। অত:পর ডাক্তারের এক বিবাহযোগ্য সুন্দরী কিন্তু স্বল্প শিক্ষিত মেয়ের আলোচনা এলো। এখানে ছেলের শর্ত প্রযোজ্য হচ্ছে না আর দেখতেও যাবে না। অনেক পিড়াপিড়ি করে ছেলেকে রাজি করানো হলো ডাক্তারের সেই মেয়েকে দেখতে যাওয়ার জন্য।

মেয়ে দেখা শেষে ছেলের মতামত জানতে চাওয়া হলে বললো-

“মেয়েতো দেখতে সুন্দর। কিন্তু আমার সাথে তার বয়সের ব্যবধান আট বৎসর। মেন্টালি তার সাথে মিলবে না।”

কি আর করার। এটা হলো না। বিয়ের ক্ষেত্রে যা হয় আরকি…।

এরপর ছেলেকে ঢাকায় ফেরত পাঠিয়ে ফোনে যোগাযোগ রাখা হলো।

 

পরবর্তী ছুটিতে বাড়িতে আসলে-

হঠাৎ ছেলের পিসিমার ফোন এলো। ওনার ননদের মেয়ের খবর নিয়ে। মেয়েকে আগে দেখতে হবে। বাকি কথা পরে…। কিছু বলার ছিল না। পিসিমার আদেশ। আচ্ছা ঠিক আছে। ছেলে সিদ্ধান্ত নিল মেয়ের সাথে সাক্ষাত করবে । পচন্দ হলো কিন্তু পড়াশুনায় পিছিয়ে। যা হবার তাই হলো, এবারও জোড়া মিললো না।

পিসিমা সিদ্ধান্ত নিল এবার ভাইপোর বিয়ে দিয়েই ছাড়বে।

 



“প্রাথমিক গৌরী পর্ব”

 লে রাখা ভালো- ছেলের মামা বাড়ির পাশের বাড়ির অপরিচিতা নয় এমন একজন মেয়ের সম্পর্কে আগে থেকেই সুপ্তভাবে বেশ আলোচনা হচ্ছিলো। মেয়েটির বাড়ি মন্দিরের পাশে ছিল। একসময় মন্দিরে অনুষ্ঠিত জন্মাষ্টমী অনুষ্ঠানে ছেলের জন্য খুঁজতে যাওয়া পরিচিতা সেই মেয়েটিকে দেখে বাবা কুশল বিনিময় করেন। মেয়েটির ব্যবহার আর সরলতায় মুগ্ধ হন। যে রকম মেয়ের সন্ধান করছিলেন, মেয়েটির মধ্যে তার সবগুনই বর্তমান ছিল। বাবা খুশি মনে বাড়িতে ফিরলেন।

ছেলের মায়ের বংশের স্বজনেরা কিছুতেই সম্মতি দিচ্ছে না (এর কারণ হিসেবে তাদের মত- সাধারণত বাড়ির পাশে আত্মীয়তার সম্পর্ক খুব একটা ভালো হয় না, বাপ-বেটার শ্বশুরবাড়ি একই সাথে, চেনা-জানা বলে নতুনত্বের স্বাদ থাকবে না, সম্পর্কের ধরণে পরিবর্তন হবে প্রভৃতি)। ছেলের বাবা, মা উভয়েরই পচন্দ মেয়েটিকে। ছেলের অজান্তেই এ আলোচনা প্রায় দেড় বৎসর ধরে ভাসা আর ডোবার মধ্যে ছিল।

ইতিমধ্যে বাবা-মা পচন্দের মেয়েটির সম্পর্কে এবং পারিপার্শ্বিক অসম্মতির কথা ছেলেকে জানায়। খোঁজ খবর নিয়ে ছেলেটি জানতে পারে মেয়েটি সত্যিই অসাধারণ আর প্রান-চাঞ্চল্যে ভরা। এতোদিন ঠিক যেমনটি চেয়েছিল। কিন্তু ফ্যাক্টর হয়ে দাড়ালো ছেলের মামা বাড়ির স্বজন। উপরে উল্লেখিত কারণে তারা আপত্তি করে বসলো।। এ বিষয়ে ছেলেও পিছিয়ে থাকলো না। ছেলে এক প্রকার ঘোষণা দিয়ে বসলো, মামার বাড়িতে রাজি করিয়েই এ বিয়ে সম্পন্ন হবে। শুরু হলো কাহিনী……. । কেউ রাজি হচ্ছে না, বিয়ের কথাও আগাচ্ছে না।

এবার প্রতীক্ষার প্রহর শেষের দিকে….। পিসিমা, ছেলের সাথে কথা বলে জানতে পারলো- ছেলের পরিবারের সম্মতি থাকলেও, মামার বাড়িতে সম্মতি নেই। দায়িত্ব নিয়ে মামার সাথে কথা বলে পিসিমা শেষ পর্যন্ত রাজি করিয়েই ছাড়লো।  

 

“গৌরি’র সাক্ষাত পর্ব”

02 জানুয়ারি 2021 খ্রি:

মেয়েটির সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য ছেলেটি এবং তার এক বন্ধু আর মামাতো ভাই সহ গিয়েছিল সেখানে। মেয়ে পক্ষের গুরুজনেরাও উপস্থিত ছিলেন। নানা পদের নাস্তা আয়োজন করা হলো। কিন্তু ছেলেটির আগ্রহ মেয়েটি কখন আসে। নাস্তা শেষে মেয়েটি পান-সুপারি নিয়ে হাজির। প্রথম দেখায় ভালো লাগলো ছেলেটির। বিভিন্ন তথ্য জিজ্ঞাসা করা হলো মেয়েকে। বিনয়ের সাথে যথাযথ উত্তর পাওয়া গেলো। ছেলেটি লক্ষ্য করলো মেয়েটি কী যেন জানতে চায় তার কাছে। কিন্তু বড়দের সামনে মেয়েটি যেন সাহস করে উঠতে পারছে না। ছেলেটি অভয় দিয়ে বললো- “আপনি চাইলে যে কোনো প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পারেন আমাকে। আমার কোনো অসুবিধা নাই।” মেয়েটির আনন্দ আর অন্তরের ব্যক্ত প্রশ্নগুলো শুনে দু’পক্ষের সবাই খুশি হলো।

ছেলেটি মনে মনে চেয়েছিল মেয়েটিকে আর একটু জানতে, সময় যদি পাওয়া যেত। বন্ধুটি বললো- ‘যেহেতু মেয়ে তোর পচন্দ হয়েছে, জানার সময় অনেক পাবি।’ এদিকে সূয কে আর সময় না দিয়ে গোধুলি চলে এলো। ছেলেটির কিছু প্রশ্ন রয়েই গেলো। খুব অল্প সময়ের মধ্যে অন্নভোজের আয়োজন করা হলো। ভোজন শেষে ছেলেটি বিদায় নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হলো।

 

এরপর চললো ব্যস্ততা আর আলোচনা। সিদ্ধান্ত হলো 05 জানুয়ারি 2021 খ্রি: মেয়ে পক্ষ থেকে কয়েকজন ছেলে পক্ষের বাসায় আসবে।

কিন্তু 05 জানুয়ারির পূর্বে এলো একটি দুঃসংবাদ। “মেয়ের বড়মা পরলোক গমন করেছেন।” ওঁ দিব্যান্ লোকান্  গচ্ছতু 

যা হওয়ার তাই। ছেলেপক্ষ তেরদিন পরে শেষশ্রদ্ধার্ঘ অনুষ্ঠান শেষে আলোচনা করবে বলে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবে। কিন্তু মেয়েপক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়া হলো, তারা নির্ধারিত দিনে ছেলের বাসায় আসবে। কিন্তু ছেলেপক্ষের কেউ কেউ আবার দ্বিমত পোষন করলো। বললো, শুভকাজ কেন অশুভ সময়ে করা হবে? যা কিনা সবার জন্য অমঙ্গল হতে পারে।

এদিকে, কুসংস্কারে বিশ্বাস নেই ছেলের। বিধায়, সে পরিবারকে রাজি করালো।

 

“গেীরি’র বাকদান পর্ব”

05 জানুয়ারি 2021 খ্রি:

সকাল দশটার সময় ফোন এলো--“আমরা বেলা একটার সময় আসছি।” কথাটি শুনে ছেলে পক্ষের মাথায় হাত। কথা ছিল তিনটে থেকে সাড়ে তিনটের মধ্যে আসার। দু’ঘণ্টা পূর্বেই আসবে। ফলে দ্রুত আয়োজন করতে সবার নাভিশ্বাস উঠে গেলো।

ছেলে ভেবেচিন্তে শর্টকাট কিছু উপায়ে আয়োজন করতে থাকলো। কিছুক্ষণ পরেই কনেপক্ষ উপস্থিত। দেখা গেলো বেশিরভাগই পরিচিত মুখ। অনিচ্ছা সত্ত্বেও ছেলের নিজেকে আনইজি ফিল হতে লাগলো। যেখানে সে ছোটবেলা থেকে বড় হয়েছে সেখানকার মানুষজনই তাকে বর হিসেবে দেখতে এসেছে। একথা ভাবতেই ছেলের নিজের মধ্যে কিরকম একটা অনুভূতি হতে লাগলো।

 

এরপর আপ্যায়ন আর আলোচনা শেষে গৌরি বাকদান সম্পন্ন হলো।

 

চলমান থাকবে…

আসছে............................

  “গৌরি’র প্রাথমিক ভাব বিনিম” পর্ব 

“গৌরি’র ফোনালাপ ও অভিমান পর্ব”

 “গৌরি’র পরিণয়” প্রাথমিক পর্ব

………………..

No comments:

Post a Comment